ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ

পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন কারাগারে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর ছেলে সুলাইমান খান। দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারা এবং যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে নির্যাতন ও নির্জন কারাবাসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টের পর থেকে ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন সুলাইমান। তাঁর অভিযোগ, কারাগারে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে।

 

ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথের ছেলে সুলাইমান খান বাবার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের বন্দিজীবন ও কারাগারে কথিত নির্যাতনের কারণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

 

বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন ৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের রায় রয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা। এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি তাঁর।

 

সুলাইমান জানান, তাঁর বাবা আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মতো পরিণতি হতে পারে তাঁরও। ২০১৯ সালে আদালতে বিচার চলাকালে মারা যান মুরসি।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সুলাইমান অভিযোগ করেন, আগস্টের পর থেকে পরিবারের কেউ তাঁর বাবাকে দেখেননি কিংবা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। ওই সময় ইমরান খান নিজেই কারাগারে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

 

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগও তুলেছেন সুলাইমান। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল।

 

যদিও গত আগস্টে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে শারীরিকভাবে সুস্থ বলে মত দেন। তবে চিকিৎসার ব্যবস্থা ও আদালতের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল তাঁর পরিবার ও দল।

 

সুলাইমান আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়েই তাঁকে এভাবে বন্দী রাখা হচ্ছে। কারাগারে ইমরান খানের কোনো অঘটন ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে, ইমরান খানকে সরকারের কোনো নির্বাহী আদেশে আটক রাখা হয়নি। তিনি আদালতের রায়ে দণ্ডিত বন্দী হিসেবে সাজা ভোগ করছেন।

 

এদিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তাঁর সমর্থকেরা। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সেপ্টেম্বরে পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে তাঁর তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে জনশৃঙ্খলা আইনের আওতায় আটক করা হয়। পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তাদের বরাতে তাঁদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

 

ইমরান খানের মুক্তি, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসার দাবিতে চলতি অক্টোবরেও পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। হাজার হাজার সমর্থক এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চেরও আয়োজন করেন আন্দোলনকারীরা।

এর মধ্যে ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিতের খবর সামনে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র জঙ্গিদের তৎপরতাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে পিটিআই এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে।

 

কারাবন্দী অবস্থাতেও ইমরান খানকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও সমর্থকেরা। তবে তাঁর জীবননাশের চেষ্টা চলছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা গুরুতর অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন