ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

হংকংয়ে ভবনের অগ্নিকাণ্ডে সরকার প্রধানের মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা, মন্ত্রীর পদত্যাগ

হংকংয়ে ভবনের অগ্নিকাণ্ডে সরকার প্রধানের মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা, মন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক

হংকংয়ে ভবনের অগ্নিকাণ্ডে সরকার প্রধানের মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা, মন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

গত বছরের নভেম্বরে হংকংয়ের তাই পো এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন শহরটির প্রধান নির্বাহী জন লি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে গঠিত বিচারক-নেতৃত্বাধীন প্যানেলের এক হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ওই প্রতিবেদনে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোর পরও ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার জন্য ৪ সরকারি দপ্তরকে আংশিকভাবে দায়ী করা হয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে মাথা নত করে দুঃখপ্রকাশের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে লি বলেন, ‘প্রধান নির্বাহী এবং সরকার প্রধান হিসেবে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এসএআর সরকারের পক্ষ থেকে আমি ভুক্তভোগী এবং বৃহত্তর জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চাইছি।’ এ ঘটনার জেরে হংকংয়ের গৃহায়ণমন্ত্রী উইনি হো পদত্যাগ করেছেন বলেও জানান লি।


১৯৪৮ সালের পর হংকংয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে উত্তরাঞ্চলীয় তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে। সংস্কারকাজ চলাকালীন ধুলোরোধী জাল ও স্ক্যাফোল্ডিংয়ে মোড়ানো ৩১ তলাবিশিষ্ট সাতটি টাওয়ার ব্লকে এই আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েন। এক বছরের বেশি সময় ধরে সেখানকার বাসিন্দারা সংস্কারকাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ‘জ্বলন্ত কোনো উৎস সম্ভবত একটি সিগারেট’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশাসনিক ও তদারকি ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘আগুন নেভানো গেছে, তবে সংস্কারের কেবল শুরু।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কমিটি দেখতে পেয়েছে যে কোনো সরকারি দপ্তরই অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর দায়িত্ব নেয়নি এবং অগ্নিঝুঁকি সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছিল।’


এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল দায় হিসেবে সংস্কার প্রকল্পের ঠিকাদার প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লিমিটেড এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উইল পাওয়ার আর্কিটেক্টস কো. লিমিটেড-কে চিহ্নিত করেছে কমিটি। অবহেলাজনিত মৃত্যু, প্রতারণার ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকিসহ অন্তত ২৫টি ফৌজদারি অভিযোগে এই দুটি কোম্পানি এবং সাতজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি আরও গভীরে গিয়ে নির্মাণ খাতে ব্যাপকভাবে প্রচলিত বেআইনি ও সন্দেহজনক চর্চাগুলোকে একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ইকোসিস্টেম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বলা হয়েছে, নির্মাণ খাতে দরপত্র কারচুপির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা ট্রায়াড গ্যাংয়েরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।


জনসাধারণের ক্ষোভ এবং সরকারি জবাবদিহির অভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে হংকং সরকার এই ঘটনায় কোন কর্মকর্তারা দায়ী হবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করতে একটি স্বাধীন তদন্ত দল গঠন করেছে। জন লি ঘোষণা দিয়েছেন, হংকংয়ের মুখ্য সচিব এরিক চ্যান এখন থেকে একটি স্টিয়ারিং কমিটির নেতৃত্ব দেবেন, যা তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশকৃত সংস্কারকাজগুলোর তদারকি করবে। এর আওতায় নির্মাণ শিল্পে দরপত্র কারচুপিতে জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ এক কোটি হংকং ডলার জরিমানার পাশাপাশি ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লি-র মেয়াদ আগামী বছরের জুনে শেষ হতে চললেও, তিনি পরবর্তী মেয়াদে নির্বাচন করবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বিষয়ের চেয়ে ‘সংস্কার বাস্তবায়নই এখন মূল লক্ষ্য’।

 

সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন