ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বাংলাদেশ, সারা বাংলা

একসঙ্গে ২ পেশা: সরাইল থানার ওসিকে আইনজীবী সমিতির শোকজ

একসঙ্গে ২ পেশা: সরাইল থানার ওসিকে আইনজীবী সমিতির শোকজ

বাংলাদেশ, সারা বাংলা

একসঙ্গে ২ পেশা: সরাইল থানার ওসিকে আইনজীবী সমিতির শোকজ

নিউজ ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে

পুলিশে কর্মরত অবস্থায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, চাকরিতে যোগদানের আগেই তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী হিসেবে সনদ গ্রহণের পর আইন পেশায় নিয়োজিত না থেকে সরকারি-বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্য পেশায় যুক্ত রয়েছেন, এমন সদস্যদের শনাক্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

 

সমিতির তথ্য অনুযায়ী, মনজুর কাদের ভূঁইয়া ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। সমিতির অ্যানেক্স ভবনে তাঁর নামে একটি কার্যালয়ের ঠিকানাও নথিভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশে কর্মরত থাকলেও সমিতির তালিকায় তাঁর সদস্যপদ সক্রিয় থাকায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, একই সঙ্গে দুটি পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সমিতির বিধি অনুযায়ী মনজুর কাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তাই নন, আইন পেশায় যুক্ত না থেকেও সমিতির সদস্যপদ বহাল রেখেছেন এমন আরও বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, ২০০৪ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের আগেই তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য আবেদন করেছিলেন।

 

ওসি মনজুর কাদের বলেন, ‘পুলিশে যোগ দেওয়ার আগেই সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলাম। এরপরও কী কারণে সদস্যপদ সক্রিয় রয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

 

তিনি আরও জানান, আইনজীবীর সনদ নিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল। সমিতির পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ লিখিত জবাবও দিয়েছেন তিনি।

 

এদিকে আইনজীবী হিসেবে সনদ নিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়টি সম্প্রতি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

 

ওই রিটে আইনজীবীর সনদধারী হয়েও চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

 

এ অবস্থায় সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সদস্যপদ সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিয়ে সমিতির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে। তবে তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা ও প্রমাণপত্র পর্যালোচনা শেষে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন