ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১৪

ইউক্রেনের রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি জনবহুল রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দিনের বেলায় অন্য দুটি শহরে হামলায় পাঁচজন এবং গভীর রাতে রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন প্রদেশে স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে যখন দীর্ঘ সংঘাতের পর কূটনৈতিক সমাধানের একটি ক্ষীণ আশা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটল। এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেতস্কি টেলিগ্রাম অ্যাপে বলেন, ‘রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে: ট্রেনে, স্টেশনে এবং আবাসিক ভবনে। এই সন্ত্রাসের কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং কখনোই থাকতে পারে না।’


কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত ১১টার ঠিক আগে কিয়েভের কয়েকটি এলাকায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। এ সময় গুদামে আগুন ধরে যায় এবং দিনিপ্রো নদীর পূর্ব দিকে একটি ভবন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাগুলোকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন এটি ‘ইচ্ছাকৃত, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন সবাই পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পদক্ষেপ আশা করছে’। জেলেনস্কি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘রুশদের নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। রাশিয়ার এই অপতৎপরতা রুখে দিতে আমাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দরকার। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’


যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় হওয়া ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কেবল দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে কার্যকর ছিল। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরু থেকে যুদ্ধকবলিত রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সেখানে একটি মানবিক মিশন চলছিল। উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে, মাইন অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শহরে ত্রাণ প্রবেশ করতে পারবে এবং বাসিন্দারা চাইলে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারবেন। তবে এর বাইরেও রেল যোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইউক্রেনের জনজীবন ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মূলত বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের সুযোগ নিয়েই এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে।


দিনিপ্রোতে রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা জানিয়েছে, শহরের প্রধান স্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে জেট-চালিত ড্রোন আঘাত হানে। সেখানে তখন একটি লোকাল ট্রেন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলার পর স্প্লিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত প্ল্যাটফর্মে ছিন্নভিন্ন মরদেহ এবং রক্তের ছাপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাইরেনের শব্দের মাঝেই পুলিশ কালো ব্যাগে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। হামলার সময় স্টেশনের আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয় নেওয়া ৬৭ বছর বয়সী স্ভিতলানা শেরবাক বলেন, ‘আর কিসের জন্য? তারা কী লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে? আমি এর কিছুই বুঝতে পারছি না।’


দিনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্দ্র হানজা জানিয়েছেন, শহরের আরেকটি ড্রোন হামলায় একটি ছাত্রাবাসে আগুন ধরে যায়। তিনি আরও জানান, এক দিনের এই হামলায় শহরের সাড়ে ৩ লাখ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বোমাবর্ষণে নিয়মিত বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও মস্কো বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।


এদিকে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভের একটি ব্যস্ত রাস্তায় ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই হামলায় চার শিশুসহ আরও ২৩ জন আহত হন। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান দিমিত্রো ব্রিজিনস্কি বলেন, ‘সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যারা কেবল কাজে যাচ্ছিল, দৈনন্দিন কাজ করছিল এবং দিনের পরিকল্পনা করছিল।’


আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবন ও ব্যক্তিগত বাসভবনে হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় তিনটি পৃথক হামলায় যাত্রীবাহী বাসে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে ছয়জন আহত হন।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার নতুন প্রচেষ্টার মাঝেই বৃহস্পতিবারের এই হামলাগুলো চালানো হলো। আগামী মাসে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের শীর্ষ প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা কিরিলো বুদানভসহ অন্য কর্মকর্তারা কিয়েভের মিত্রদের প্রতি মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।


সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন