ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

টাঙ্গাইলে গ্রামবাসীদের চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি

টাঙ্গাইলে গ্রামবাসীদের চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি

সারা বাংলা

টাঙ্গাইলে গ্রামবাসীদের চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি

সিনিয়র রিপোর্টার, টাঙ্গাইল

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে

চারপাশে একের পর এক অসহনীয় খবরের ভিড়ে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামে ঘটেছে এক আনন্দের ঘটনা। দীর্ঘদিনের মাঠের অভাব ঘুচাতে গ্রামের শিশু-কিশোরদের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগে ৬০ শতাংশ জমি কিনেছেন গ্রামবাসী। কারও চাঁদা ২০০ টাকা, কারও ৫০০, আবার কেউ দিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। জমি বিক্রেতাও দামের বাইরে এক শতাংশ জমি দান করেছেন। এই অনন্য উদ্যোগে আনন্দে মেতেছেন পুরো গ্রামের মানুষ।

বাবুপুর গ্রামে ৭০০-এর বেশি পরিবারের সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের বাস। তাঁদের বড় একটি অংশ শিশু, কিশোর ও তরুণ। অথচ গ্রামে ছিল না কোনো খেলার মাঠ। ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে খেলত শিশুরা, আর ফসলের আবাদ শুরু হলেই বন্ধ হয়ে যেত খেলাধুলা। এভাবে বছরের পর বছর মাঠের অভাবে বেড়ে উঠছিল গ্রামের নতুন প্রজন্ম। অতীতে মাঠের জন্য বহুবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। এবার গ্রামের সন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদসহ কয়েকজন নতুন করে উদ্যোগ নেন এবং পরামর্শ চান গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের। এরপর গ্রামের বিত্তবানদের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মেলে।

 

গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সবাই একমত হন যে গ্রামের শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ প্রয়োজন। এরপর শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ। সহায়তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কেউ দেন ২০০ টাকা, কেউ ৫০০, কেউ ১ হাজার এবং সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ দেন ২ হাজার, ৫ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে এগিয়ে যায় এই উদ্যোগ।

 

পরবর্তীতে গ্রামের ইকবাল হোসেন সুজন ৬০ শতাংশ জমি বিক্রি করতে রাজি হন। প্রতি শতাংশ জমির দাম নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার টাকা। তবে তিনি পুরো ৬০ শতাংশের দাম না নিয়ে ৫৯ শতাংশের মূল্য রাখেন এবং বাকি এক শতাংশ জমি দান করেন। অবশেষে গতকাল বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সুজনের কাছ থেকে জমিটি বুঝে নেন গ্রামবাসী। এরপর সবাই মিলে মাঠের মাঝখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং যুবকেরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন কয়েকজন অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিকে। দিনভর চলে আনন্দ-উৎসব।

 

উদ্যোক্তারা জানান, তাঁদের লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়; মাঠের পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এ বিষয়ে বাবুপুর মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল শিকদার বলেন, এই মাঠে খেলাধুলা চর্চা হলে কিশোর-যুবকেরা সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ পাবে এবং তারা মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকবে। অন্যদিকে বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি জানান, বাবুপুর গ্রামের মানুষের অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল একটি খেলার মাঠের। সেটির ব্যবস্থা তাঁরা করতে পেরেছেন, যা একটি অনেক বড় প্রাপ্তি।

আরও পড়ুন