ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

কুয়াকাটার ঘটনা

হোটেল মালিকদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে শ্রম পরিদর্শক আটক

হোটেল মালিকদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে শ্রম পরিদর্শক আটক
কুয়াকাটার ঘটনা

হোটেল মালিকদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে শ্রম পরিদর্শক আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে

পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মো. শাহাব উদ্দিন নামের এক শ্রম পরিদর্শককে আটক করেছেন স্থানীয় হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ সময় তিনটি হোটেল থেকে নেওয়া মোট ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে ওই টাকা সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কুয়াকাটার হোটেল প্যালেস ও হোটেল শৈবালে লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ সময় হোটেল মালিক সমিতির নেতারা তাঁকে আটক করেন। অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে কর্মরত। তিনি ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা এবং গত চার বছর ধরে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন।

 

হোটেল মালিকদের অভিযোগ, শুক্রবার দিনভর কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার নামে টাকা আদায় করেন ওই শ্রম পরিদর্শক। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।

 

হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন জানান, কয়েক দিন আগে তাঁর হোটেলে গিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। টাকা না দেওয়ায় হোটেলের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়। পরে শুক্রবার বিকেলে আবার হোটেলে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে হয়রানি না করার আশ্বাস দিলে তাঁরা টাকা পরিশোধ করেন।

 

একই ধরনের অভিযোগ তুলে হোটেল সি-লেভের মালিক মো. সবুজ বলেন, কয়েক মাস আগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার আবারও লাইসেন্স নবায়নের জন্য আট হাজার টাকা দাবি করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার টাকা দেন এবং বাকি তিন হাজার টাকা রাতে বিকাশে পাঠানোর কথা ছিল।

 

হোটেল রিয়াজ আবাসিকের মালিক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ খান অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা হোটেলে এসে নিজের পরিচয় দিয়ে মালিকদের ভিজিটিং কার্ড ও নাম সংগ্রহ করতেন। পরে নোটিশ পাঠিয়ে লাইসেন্স না থাকার অজুহাতে মামলার ভয় দেখাতেন এবং লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন।

 

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন হোটেল মালিকের কাছ থেকে গোপনে এভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে বৈধ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স করার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। উল্টো মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় চালিয়ে যান।’ 

 

তিনি ওই কর্মকর্তাকে কুয়াকাটা থেকে প্রত্যাহার ও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার জানান, শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে কুয়াকাটায় বেড়াতে গিয়েছিলেন বলে তাঁরা জেনেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ আদায়ের কোনো বিধান নেই। তাঁদের দপ্তরে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ নবায়ন ফি মাত্র এক হাজার ৫০০ টাকা। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, শ্রম পরিদর্শক বিভিন্ন স্থানে গিয়ে টাকা তুলছেন এমন খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন