ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

নরসিংদীতে আগুনে পুড়ে ছাই নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নের ‘পিঠা ঘর’

নরসিংদীতে আগুনে পুড়ে ছাই নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নের ‘পিঠা ঘর’

সারা বাংলা

নরসিংদীতে আগুনে পুড়ে ছাই নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নের ‘পিঠা ঘর’

নরসিংদী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে

সাড়ে তিন বছর আগে শখের বশে নিজের তৈরি নকশি পিঠার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে অনলাইনে অর্ডার পেতে শুরু করেন নরসিংদীর শিবপুরের নারী উদ্যোক্তা নিপা ইসলাম। মা ও ভাইয়ের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘পিঠা ঘর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে তৈরি হতো নকশি পিঠাসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা। কর্মসংস্থান হয় ৪৩ জন নারী-পুরুষের। মাসে বিক্রি হতো ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পিঠা। কিন্তু এক রাতের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোররাত ৩টার দিকে শিবপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিপা ইসলামের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পিঠা তৈরির কারখানা, বসতঘরসহ পাঁচটি ঘর এবং সেখানে থাকা সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। নিপা ইসলামের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা পেট্রল ঢেলে পরিকল্পিতভাবে তাঁর কারখানায় আগুন দিয়েছে।

 

এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে শিবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন নিপা ইসলাম। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনূর মিয়া।

 

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে নিপা ইসলামের বাড়ির একটি ঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের আরও চারটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে পিঠা তৈরির কারখানার সরঞ্জাম, আসবাবপত্রসহ অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।

 

ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা নিপা ইসলাম বলেন, যে ঘরটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেখানে গ্যাস বা বিদ্যুতের কোনো সংযোগ নেই। এটি দুর্ঘটনাবশত অগ্নিকাণ্ড নয়, পরিকল্পিতভাবে শত্রুতা করে আগুন দেওয়া হয়েছে। রাত ২টা পর্যন্ত আমার ভাই পাশের ঘরে কাজ করছিল। আর রাত ৩টার দিকে আগুন লাগে। ঘরটির পেছন দিক থেকে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কারও সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা ছিল না। কারা শত্রুতা করে আমার সব স্বপ্ন পুড়িয়ে দিল, বুঝতে পারছি না। এখন আমার ভাত খাওয়ার প্লেটটাও নেই। সবকিছু পুড়ে গেছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিপা ইসলামের তৈরি নকশি পিঠার সুনাম অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। নিজের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি অনেক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নিপার পাশাপাশি সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বলা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনূর মিয়া বলেন, পিঠা ঘর নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী নকশি পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা বাজারজাত করতেন নারী উদ্যোক্তা নিপা ইসলাম। তাঁর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি দুর্ঘটনা না হয়ে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

জানা গেছে, নিপা ইসলাম শিবপুর উপজেলার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আফসার উদ্দিনের মেয়ে। ২০১৮ সালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাননি তিনি। বিয়েও করেননি। অনলাইনে পিঠা বিক্রির আয় দিয়ে অসুস্থ মায়ের ভরণপোষণের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাইয়ের সংসারের খরচও বহন করতেন।

 

অগ্নিকাণ্ডে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে এখন দিশেহারা নিপা ইসলাম। নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪৩ জনের কর্মসংস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন