আন্তর্জাতিক
ফ্রান্সে থামছে না বিক্ষোভ, দাবি আদায়ে ফের হাইস্কুল অবরোধে শিক্ষার্থীরা

ফ্রান্সে চলমান শিক্ষা সংকট নিরসনে সরকারের দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলোকে ‘অপ্রতুল’ আখ্যা দিয়ে সোমবার থেকে আবারও দেশজুড়ে হাইস্কুল অবরোধের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকার নতুন পদক্ষেপ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানালেও, তা প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।
শনিবার ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো রাস্তায় নামে লাখো মানুষ। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও অংশ নেন। শনিবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
‘লিসিয়েন্স!’ (Lycéens!) গ্রুপের প্রধান পিয়েরে সুরজাত রোববার সম্প্রচার মাধ্যম আরএমসি-কে বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। তবে আমরা জানি আগামীকাল (সোমবার) থেকেই কিছু স্কুল অবরোধ করা হবে।’
দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে সোমবার শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরতে শুরু করবে। সুরজাত বলেন, ‘আগামীকাল থেকে যেসব শিক্ষার্থী তাদের স্কুল অবরোধ করবে, আমরা তাদের সবাইকে সমর্থন করি।’
শিক্ষার মান অবনতি ও বৈষম্যের প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন পরবর্তীতে দেশজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয়।
গত সোমবার ফরাসি সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এবং স্কুল সংস্কারের জন্য ঋণ দেয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাবগুলোকে ‘পর্যাপ্ত নয়’ বলে দাবি করেছে।
শনিবার স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (ইউনিয়ন এতুদিয়ান্তে) মুখপাত্র সাবরিন খারবাচ জানান, আগামী মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার তারা বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাইস্কুলগুলোতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন।
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, ‘তরুণদের কথা শোনা হয়েছে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।
তবে ম্যাক্রোঁর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সুরজাত বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের কথা শোনেননি। এটি কেবলই ধোঁয়াশা। বাইরে থেকে সামান্য চাকচিক্য দেখালেও, গভীরে আসলে কিছুই নেই।’
সুরজাত আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তা স্বচ্ছতার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত। উচ্চশিক্ষায় আসনের সংকট সমাধানে এটি কোনো ভূমিকা রাখবে না।’
এছাড়া ক্লাস সাইজ কমানোর সরকারি পরিকল্পনাকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘এটি কেবল দশম শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য হবে। আমরা চেয়েছিলাম সব শ্রেণির জন্য।’
ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স বর্তমানে মন্দার দ্বারপ্রান্তে। পাশাপাশি ঋণ নিয়ন্ত্রণের চাপ থাকায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার সুযোগও সরকারের জন্য বেশ সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪
ডিবিসি/এসভিএন