আন্তর্জাতিক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পথে অগ্রগতি হয়েছে: জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটন বেশ কিছু ‘অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। তিনি জানান, একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজনেই বেশ আশাবাদী। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং তারা এই প্রক্রিয়াটি সফল করতে কাজ চালিয়ে যাবেন।
ইরানিদের স্বভাব কিছুটা ‘অনিশ্চিত’ উল্লেখ করে ভ্যান্স জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সামরিক ও অসামরিক উভয় ধরনের বিকল্পই রয়েছে। তবে তারা আলোচনায় ইতিমধ্যে কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছেন এবং সামনে আরও সমাধানের পথ খুঁজছেন। হামলা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে ইরানকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি। ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরান যেন তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক কর্মসূচি কোনোভাবেই আর পুনর্নির্মাণ করতে না পারে। এ জন্য তেহরানের কাছ থেকে একটি দৃঢ় ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি চাওয়া হচ্ছে।
ভ্যান্সের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটনে লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল পুনরায় উদ্বোধনের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই ধরনের কথা বলেন। নবম মাসে গড়ানো এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে তিনি জানান। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান তাদের নেতাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ মেনে নেবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ওই অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি স্মারকলিপি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানামুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ চলাচলের ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে এখনও কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/পিআরএএন