আন্তর্জাতিক
ফ্লোরিডায় বিধ্বস্ত বিমানের সহপাইলট নাতালিয়ার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিধ্বস্ত লিয়ারজেট উড়োজাহাজটির কো-পাইলট ছিলেন ২০ বছর বয়সী নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তার কণ্ঠেই শোনা গিয়েছিল আর্তনাদ, ‘মে ডে’, ‘মে ডে’।
গত রবিবার (১ নভেম্বর) টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামা যাওয়ার পথে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় একটি ছোট লিয়ারজেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার কিছু মুহূর্ত আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) রেডিও কলে ফিলগেইরাস জানান, বাইরের তাপমাত্রা মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায় উড়োজাহাজে বরফ জমছিল। উড়োজাহাজে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
কয়েক মুহূর্ত পর ফিলগেইরাস চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘মে ডে’, ‘মে ডে’। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত গতির অবস্থায় চলে গেছি, প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি, আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’
ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির এক আবাসিক এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়, যাতে আরোহীদের নয়জনই নিহত হন। এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের ফ্লাইট ডেটাতে দেখা যায়, লিয়ারজেট৬০ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র এক মিনিট আগে ২৭ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।
নাতালিয়া ফিলগেইরাস ১৭ বছর বয়সে প্রাইভেট পাইলট ডিগ্রি অর্জন করেন। তৎকালীন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে ওয়েস্ট বোকা র্যাটন কমিউনিটি হাইস্কুলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রী থাকাকালে তিনি পাইলট লাইসেন্স পান। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগেই প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স পাওয়ায় এর আগেও তিনি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিলেন।
তার মা ক্যামিলা গাদেলহা কোর্টেলেটির ভাষ্যমতে, ফিলগেইরাস নয় মাস ধরে কমার্শিয়াল পাইলট হিসেবে কাজ করছিলেন। সিএনএন ব্রাসিলকে তিনি বলেন, ‘সে খুব ভালো একটা মেয়ে ছিল, দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী। সে ছিল সহপাইলট এবং তার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার ছিল না।’
ফিলগেইরাসের সৎবাবা থিয়াগো কোর্টেলেটি জানান, ফিলগেইরাসের ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টা ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল। উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে এই তরুণী তার বয়ফ্রেন্ড জাস্টিনকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। মেসেজে তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হচ্ছে, বরফ জমছে।’
২০২০ সালে পাইলটের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন ফিলগেইরাস। তার বাবাও তাকে শেখাতেন। সিবিএস১২-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রমী হতে আমার ভালো লাগে। আমি সাধারণ কিছু না করে এটাই করেছি। অনেকে ভাবেন, আমি উড়োজাহাজ ওড়াতে পারি অথচ গাড়ি চালাতে পারি না, এটা অদ্ভুত। আমার নিজেরও হাসি পায়।’
পাম বিচ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের হাইস্কুলের বিশেষায়িত এভিয়েশন একাডেমির অংশ হিসেবে তার লাইসেন্সের খরচ বহন করেছিল।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডাম রবিনসন, তার স্ত্রী হেলেন শার্প, তাদের চার বছর বয়সী মেয়ে এমা ও দুই বছরের ছেলে চার্লি। তাদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা অনিতা মারিয়া সেটিনাও মারা গেছেন। এছাড়া র্যাচেল রিড ও চার্মি ফেহর নামে আরও দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহত সাত যাত্রীর পরিবারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের হৃদয় পাইলটদের পরিবারের জন্যও সমব্যথী, যারা আমাদের মতোই গভীর শোকে নিমজ্জিত।’
সূত্র: এনবিসি নিউজ
ডিবিসি/এসভিএন