ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বাংলাদেশ, সারা বাংলা

বরিশালের ঘটনা

অবশেষে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো বসতঘরের মাঝের সেই দুটি কবর

অবশেষে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো বসতঘরের মাঝের সেই দুটি কবর
বরিশালের ঘটনা

অবশেষে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো বসতঘরের মাঝের সেই দুটি কবর

বরিশাল প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসতঘরের মাঝে দুটি কবরকে ঘিরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের।

অবশেষে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর দেখতে পান।


এ সময় তারা সজীব বেপারী ও তার মা শিউলী বেগমের সাথে কথা বলেন। সজীব বেপারী প্রশাসনের কাছে কবর দুটি নিজে বানানোর কথা স্বীকার করে। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে সজীব নিজেই কবর দুটি কুপিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলে। কী কারণে সজীব কবর দুটি বানিয়েছিল তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এ সময় সজীব বেপারী ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দেয়।


সূত্রমতে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী ছয় মাস আগে থেকে কথিত ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিল। তার কাছে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসত। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত।


হঠাৎ করে সজীবের বসতঘরের মাঝে গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় একটি ও একই দিন রাত ১২টার দিকে আরেকটিসহ মোট দুটি কবর গায়েবিভাবে জেগে উঠেছে বলে সজীবের পরিবার এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ঘরের মধ্যে জেগে ওঠা কবর দুটির একটিকে বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী ও আরেকটিকে খাজা মইনুদ্দীন চিশতীর কবর বলে দাবি করে সজীব।


বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে জেগে ওঠা কবর দেখার জন্য ভিড় করতে থাকে। পাশাপাশি সজীব বেপারীর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।


আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল জানান, ‘এরকম একটি ঘটনা শুনে আমরা এখানে এসেছি। মানুষ যেন প্রতারিত না হয়, তার জন্য সজীব বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে কবর বানানোর কথা অকপটে স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার বানানো কবর সে নিজেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে সজীব ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়েছে।’


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন