সারা বাংলা
ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিতে মার্কেট করতে চায় জেলা পরিষদ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু রেখে বাকি জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করতে চায় জেলা পরিষদ। এ জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সীমানার ভেতরে ইট আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এ উদ্যোগে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিন শতাধিক রোগী যেখানে চিকিৎসা নেন, সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্প্রসারণের জন্য জমি রাখা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারি কাদেরী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীও ছিলেন।
কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জারকা বেগম জানান, সকালে কাজে এসে তিনি শ্রমিকদের ইট আনতে দেখেন। পরে জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা সেখানে যান। এ সময় কেন্দ্রের পেছনের একটি পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি। পরে সাংবাদিকেরা সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে দুই জায়গায় নতুন ইটের স্তূপ এবং পুরোনো ভবনটির কিছু অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারি কাদেরী বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সচল আছে। সেটি চালু রেখেই বাকি জায়গায় জেলা পরিষদ নিজ উদ্যোগে মার্কেট নির্মাণ করবে। কাজের জন্য ইট আনা হয়েছে, তবে এখনো কাউকে জায়গা ইজারা দেওয়া হয়নি। জমি স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড থাকার কথা জানিয়ে তিনি জোর করে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রায় ৪৬ শতাংশ জমি বিএস খতিয়ানে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ওই জমির ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছে। তবে আরএস খতিয়ানে জমিটি জেলা পরিষদের নামে রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক জানান, প্রায় তিন মাস আগে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জমিটির রেকর্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তবে সেখানে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তাঁকে জানানো হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ২০১৯ সালের এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় পরিত্যক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সচল। এ কেন্দ্রের জমি অধীনে নেওয়ার পক্ষে জেলা পরিষদ তাঁকে কোনো কাগজপত্র দেখায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর জানান, স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নেন। ভৈরব পৌরসভাও এখানে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এখানে ২০ শয্যার একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হোক। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা চান তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, মার্কেট নির্মাণ করা হলে কেন্দ্রটি সম্প্রসারণ এবং ডায়াবেটিক হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে।
ডিবিসি/আরএসএল