আন্তর্জাতিক
সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বন বানাচ্ছে আবুধাবি, ড্রোন দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বীজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার ও নতুন করে গাছ লাগানোর এক উচ্চাভিলাষী প্রকল্প চলছে। ‘আবুধাবি ম্যানগ্রোভ ইনিশিয়েটিভ’ (এডিএমআই) নামের এই প্রকল্পের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ১০ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেবল ২০২৩ সালেই বিশেষভাবে তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে ৬০ লাখেরও বেশি বীজ ছড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ড্রোন একসঙ্গে ৬ হাজার ‘অ্যাভিসেনিয়া সামুদ্রিক’ বীজ বহন করতে পারে। ড্রোনের ডেলিভারি সিস্টেম সজোরে নিচের দিকে বীজ নিক্ষেপ করে, যাতে সেগুলো জোয়ারের কাদায় ভালোভাবে আটকে যায়। চারাগুলো যেন ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য ড্রোনগুলো প্রকৃতিবান্ধব একটি প্যাটার্ন অনুসরণ করে।
আবুধাবি পরিবেশ সংস্থার হয়ে ড্রোনগুলোর নকশা ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ‘ডিস্ট্যান্ট ইমাজারি’র কোরি রোডস বলেন, ‘সবকিছুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়। কেবল সেসব জায়গাতেই বীজ বোনা হয়, যেখানে গাছ বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আমরা সোজা লাইনে বা কোনো জলাশয় ও খালে বীজ ফেলি না। আগে থেকেই গাছ আছে এমন জায়গাগুলোতে সিস্টেমটি নিজ থেকেই কাজ করা বন্ধ ও শুরু করতে পারে। কাজ শেষ হওয়ার পর এটিকে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের মতোই মনে হয়।’
বিজ্ঞানীদের একটি দল মাটি, পানির গুণগত মান এবং জোয়ার-ভাটার মাত্রা মূল্যায়ন করে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটিতে সহায়তা করছে। প্রকল্পটির প্রধান বিজ্ঞানী ও আবুধাবি পরিবেশ সংস্থার নাসরিন আলজাহলাউই বলেন, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রাকৃতিকভাবে টিকে থাকা বনগুলোকে রক্ষা করা এবং এরপর বিজ্ঞানভিত্তিক পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এর উন্নতি করা। আমরা নতুন কোনো আবাসস্থল তৈরি, বিদ্যমান প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বিকল্প বা বিশাল এলাকায় নতুন করে বনায়ন করতে চাইছি না। আমরা কেবল বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উন্নত করার চেষ্টা করছি।’
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এডিএমআই প্রকল্পের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ অঞ্চলেও কাজে লাগানো যাবে। প্রকল্পটির অংশীদার জুলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের কনজারভেশন ও পলিসি ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু টেরি বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ হলো সত্যিকারের জলবায়ু সুপারহিরো। বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার ম্যানগ্রোভ বন টিকে আছে, তবে এগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। আমরা আরব আমিরাতের সহকর্মীদের সাথে মিলে এই জ্ঞান ও সহায়তা বিশ্বের সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকাগুলোতে পৌঁছে দিতে চাই।’
সূত্র: আবুধাবি পরিবেশ সংস্থা
ডিবিসি/এসভিএন