ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বিনোদন

আজ প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিন

আজ প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিন

বিনোদন

আজ প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে

চলচ্চিত্রে মুখটি নায়কের, কিন্তু অনুভূতিকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া কণ্ঠটি অনেক সময় এন্ড্রু কিশোরের। পর্দার চরিত্রের প্রেম, হারানোর বেদনা কিংবা জীবনের আক্ষেপ তাঁর গায়কিতে পেয়েছে আলাদা আবেদন। বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে তাই এন্ড্রু কিশোরকে স্মরণ করা মানে কেবল একজন শিল্পীকে স্মরণ করা নয়; একটি দীর্ঘ সংগীতযাত্রার দিকে ফিরে তাকানো।

আজ ৪ নভেম্বর, তাঁর ৭১তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৫৫ সালের এই দিনে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এই নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী। শ্রোতাদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন প্লেব্যাক সম্রাট নামে।

 

রাজশাহীতেই তাঁর বেড়ে ওঠা এবং সংগীতশিক্ষার শুরু। সংগীতগুরু আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে প্রাথমিক তালিম নেন তিনি। স্বাধীনতার পর রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করতেন। চলচ্চিত্রের গানে পরিচিত হয়ে ওঠার আগেই তাঁর চর্চার পরিসর ছিল বিস্তৃত।

 

চলচ্চিত্রে সেই কণ্ঠের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে। মেইল ট্রেন ছবিতে আলম খানের সুরে প্রথম প্লেব্যাক করেন এন্ড্রু কিশোর। এরপর চার দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রের গানে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন। প্রেমের গান থেকে বিষাদ, আধ্যাত্মিক অনুভব থেকে জীবনের অনিশ্চয়তা-বিভিন্ন আবেগের গান তাঁর কণ্ঠে জায়গা করে নেয়।

 

তাঁর গানের বৈচিত্র্য বোঝার জন্য পাশাপাশি রাখা যায় ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’ এবং ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’র মতো গান। কোথাও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, কোথাও নিবিড় সম্পর্কের অনুভূতি, কোথাও বিদায়ের বোধ। এসব গানের কথা ও সুরকে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রের দৃশ্য পেরিয়েও গানগুলোকে শোনার কারণ সেখানেই পর্দার চরিত্রের অনুভূতির সঙ্গে শ্রোতা নিজের অভিজ্ঞতা মেলাতে পারেন।

 

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এসেছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ১৯৮২ সালের ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের গানের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এন্ড্রু কিশোর। এরপর ‘সারেন্ডার’, ‘ক্ষতিপূরণ’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘কবুল’, ‘আজ গায়ে হলুদ’, ‘সাজঘর’ ও ‘কি যাদু করিলা’ চলচ্চিত্রের গানের জন্য একই সম্মাননা অর্জন করেন। সব মিলিয়ে শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

 

তাঁর সংগীতজীবনের স্বীকৃতিতে যুক্ত হয় মরণোত্তর একুশে পদকও। ২০২৪ সালে এ সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। তাঁর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু।

 

জীবনের শেষ অধ্যায়টি কেটেছে অসুস্থতার সঙ্গে লড়ে। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন এন্ড্রু কিশোর। পরে দেশে ফিরে আসেন। ২০২০ সালের ৬ জুলাই রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। জন্মশহরেই থেমে যায় তাঁর জীবনের পথচলা।

 

জন্মবার্ষিকীতে তাঁর রেখে যাওয়া কাজের দিকে ফিরে তাকালে পুরস্কারের তালিকার পাশাপাশি সামনে আসে একটি কণ্ঠের নিজস্ব পরিচয়। যে কণ্ঠ শুনে শিল্পীকে চিনতে পর্দায় তাঁর মুখ দেখার প্রয়োজন হয় না। এন্ড্রু কিশোরের গান শোনার মুহূর্তে সেই পরিচয়ই ফিরে আসে-দৃশ্য বদলায়, সময় বদলায়, কণ্ঠটি পরিচিত থেকে যায়।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন