সারা বাংলা
সব প্রস্তুতির পরও কাল সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না পর্যটকবাহী ৩ জাহাজ

চলাচলের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ। যদিও সকাল থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সকল দাপ্তরিক কাজের অনুমোদন মিলেছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিন যাত্রা করবে। এর প্রেক্ষিতে জাহাজ কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের কাছে টিকিট বিক্রিও শুরু করেছিল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৫ শতাধিক টিকিট বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচল শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
তিনি জানান, সরকারি সকল দপ্তর ও সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতির জন্য বুধবার সারাদিন প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্মতি মেলেনি। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যে ৩টি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) জেটি ঘাট থেকে যাত্রা করার কথা ছিল, তা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে টিকিট কেনা যাত্রীরা যেদিনই জাহাজ চলাচল শুরু হবে সেদিন যেতে পারবেন।
তিনি আশা করছেন, বৃহস্পতিবার সম্মতি পেলে শুক্রবার জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো ধরনের সাড়া দেননি।
তবে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা করা হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত হবে কখন জাহাজ ছাড়বে। তবে কখন এই সভা আহ্বান করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামের ৩টি জাহাজ। অনুমোদনপ্রাপ্ত এই ৩টি জাহাজের মোট ধারণ ক্ষমতা ২২ শত ৯৮ জন। যার মধ্যে এমভি বার আউলিয়া ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলী ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফ ৭১৬ জন যাত্রী ধারণ করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া সময়সূচি মতে, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার ঘাট থেকে যাত্রা করবে এবং বিকাল আড়াইটায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ঘাট থেকে যাত্রা করে সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ঘাট থেকে যাত্রা করে বিকাল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে।
সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পর্যটকরা দ্বীপে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত্রিযাপনও করতে পারবেন। তবে দ্বীপে যেতে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি আগের মতোই ট্রাভেল পাস ও কিউআর (QR) কোডযুক্ত টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করতে হবে। দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটককে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে আরোপিত বিধিনিষেধ মতে রাতে সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয়ও করা যাবে না।
এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন