ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে বিক্ষোভে জনতার ঢল, ৬ ও ৭ তারিখেও রাজপথে নামার ঘোষণা

ফ্রান্সে বিক্ষোভে জনতার ঢল, ৬ ও ৭ তারিখেও রাজপথে নামার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে বিক্ষোভে জনতার ঢল, ৬ ও ৭ তারিখেও রাজপথে নামার ঘোষণা

ফ্রান্স প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি নিয়ে ফ্রান্সে যে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল, তা এখন সরকারবিরোধী এক বিশাল গণদাবিতে রূপ নিয়েছে।

৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রধান প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো যেসব সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল, সেখানে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা। তাদের এই যৌথ অংশগ্রহণে রাজধানী প্যারিসসহ পুরো ফ্রান্সজুড়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে অবরোধ তৈরি করায় দেশটির শিক্ষা কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবায় অর্থায়ন বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে নামেন লাখ লাখ মানুষ।

 

ফরাসি শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, দেশজুড়ে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজার আন্দোলনকারী। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সারা দেশে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৬ লাখ মানুষ। আন্দোলনকারীরা ৬ নভেম্বর শুক্রবারও ধর্মঘট ও অবরোধ বজায় রাখার ডাক দিয়েছে এবং ৭ নভেম্বর শনিবার আবারও দেশজুড়ে নতুন করে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

 

প্যারিসে বিক্ষোভের মূল মিছিলটি দুপুর দুইটায় ঐতিহাসিক রিপাবলিক চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্লাস দ্যা ন্যাশনে গিয়ে শেষ হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পুলিশের নিষিদ্ধ করা বাস্তিল থেকে কনকর্দ রুট বাতিল হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প পথেই অনুষ্ঠিত হয় এই মিছিল। মিছিলের শুরুতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও বুলেভার্ড ভলতেক এলাকায় মুখোশধারী একটি গোষ্ঠীর ভাঙচুরের পর পুলিশের অভিযানে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয় এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন। এছাড়া মার্সেই, লিয়ঁ, তুলুজ, বোর্দো, রেন ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে সংঘাত ও বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দেশজুড়ে অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ, ড্রোন, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান ও জলকামান মোতায়েন রেখেছিল প্রশাসন।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ধর্মঘটের কারণে দেশটির রেল যোগাযোগ ও আইফেল টাওয়ারের পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ৯ নভেম্বর সোমবার শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের নিয়ে এক সামাজিক সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লোকুর্নে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, কেবল আলোচনায় তারা সীমাবদ্ধ থাকবে না, দাবির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলবে। শনিবার ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের নজর রয়েছে প্যারিসের দিকে। সব মিলিয়ে সরকারের সঙ্গে আগামী সোমবারের বৈঠক এবং সপ্তাহান্তের নতুন কর্মসূচির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো ফ্রান্স।


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন