ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

মাগুরার ডুমুরশিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ১০৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা ও লাঠিখেলা

মাগুরার ডুমুরশিয়ায়  অনুষ্ঠিত হলো ১০৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা ও লাঠিখেলা

সারা বাংলা

মাগুরার ডুমুরশিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ১০৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা ও লাঠিখেলা

মাগুরা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের ডুমুরশিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা ও লাঠিখেলা। শুক্রবার বিকেলে ডুমুরশিয়া স্কুল মাঠে আয়োজিত এ মেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের আয়োজনে ১০৬ বছর ধরে চলে আসছে এ মেলা ও লাঠিখেলা। এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। এতে মাগুরা জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলার লাঠিয়াল বাহিনী অংশ নেয়। তাদের কৌশল ও শারীরিক নৈপুণ্যে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শনার্থীরা।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী এ মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, লাঠিখেলা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামবাংলার এ খেলাকে আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে যারা এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন, সেই লাঠিয়ালদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দাদার আমল থেকে এ লাঠিখেলা চলে আসছে। আমার দাদা আয়োজন করেছেন, বাবা করেছেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় আমরাও এ আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছি। ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে এবার হাজারো মানুষের সমাগম হয়েছে। মানুষের কাছে আমাদের এই ঐতিহ্য তুলে ধরতেই প্রতিবছর এ খেলার আয়োজন করি। যতদিন বেঁচে থাকব, বাব-দাদার রেখে যাওয়া এ ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করব।’

 

মেলা ও লাঠিখেলা দেখতে মাগুরাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে এসেছিলেন ঐতিহ্যবাহী এ খেলা উপভোগ করতে।

 

লাঠিখেলার পাশাপাশি স্কুল মাঠজুড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। সেখানে ছিল শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা, চুড়ি, ফিতা ও প্রসাধনসামগ্রীর দোকান। পাশাপাশি বসেছিল বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান।

 

মেলা উপলক্ষে রাতে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিচার গানের আসর। সব মিলিয়ে লাঠিখেলা, গ্রামীণ মেলা ও লোকজ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ডুমুরশিয়ায় ফিরে আসে গ্রামবাংলার চিরচেনা উৎসবের আমেজ।

 

ডিবিস/এসডিব্লউএন

আরও পড়ুন