ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

চাকরিতে তথ্য গোপনের অভিযোগ ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে, প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে

চাকরিতে তথ্য গোপনের অভিযোগ ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে, প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে

সারা বাংলা

চাকরিতে তথ্য গোপনের অভিযোগ ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে, প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে

নওগাঁ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

নওগাঁর পত্নীতলায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ও অগোচরে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে অবিবাহিত দেখিয়ে বৈবাহিক তথ্য গোপনের অভিযোগও করেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত ফায়ার ফাইটারের নাম হাসিবুল হাসান। তিনি বর্তমানে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কর্মরত।

 

অভিযোগকারী তাঁর প্রথম স্ত্রী তামান্না ইসলামের দাবি, ২০১৯ সালে সামাজিকভাবে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়। পরে ২০২১ সালে বিয়ের কাবিন সম্পন্ন করেন তাঁরা। ২০২২ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ফায়ার ফাইটার পদে যোগ দেন হাসিবুল। তবে চাকরির আবেদন ও নিয়োগের সময় নিজেকে অবিবাহিত উল্লেখ করে প্রকৃত বৈবাহিক তথ্য গোপন করেন তিনি।

 

তামান্না বলেন, তাঁর প্রবাসী বাবা-মা জামাতার চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। বিয়ের পর তাঁদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে প্রায় দুই মাস আগে তিনি জানতে পারেন, হাসিবুল নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার রামনারায়ণপুর বিহারীনগর এলাকার ইখলাছ হোসেনের বড় মেয়ে মারিয়াকে বিয়ে করেছেন।

 

তামান্নার ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে স্বামীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। পরে একদিন গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যান হাসিবুল। এরপর পত্নীতলার নজিপুর এলাকায় তাঁকে নামিয়ে দিয়ে নিজে পরে আসবেন বলে বাসায় ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি।

 

তামান্না আরও বলেন, রাতে জানতে পারেন তাঁদের সংসারের টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, প্রায় সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকারসহ যাবতীয় আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে হাসিবুল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।

 

অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা মারিয়ার বাবা ইখলাছ হোসেনও হাসিবুলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, হাসিবুল ও তাঁর মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করেছেন। হাসিবুল তাঁদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তবে তাঁর আগে বিয়ে হয়েছিল কিংবা প্রথম স্ত্রী আছেন, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসিবুল হাসান। তিনি বলেন, মারিয়া নামে কোনো মেয়েকে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। চাকরিতে তথ্য গোপনের অভিযোগও সঠিক নয়।

 

এদিকে, দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ তুলে গত ৭ অক্টোবর পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তামান্না ইসলাম। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করানো হয়। গত ৪ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে হাসিবুলের দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।

 

এ বিষয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, ফায়ার ফাইটার হাসিবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তাঁরা অবগত আছেন। প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগীকে মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন