ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ সংস্কার কাজ

ভোলার চরফ্যাশনে বেহাল সড়ক, চরম দুর্ভোগে ৫ লাখ মানুষ

ভোলার চরফ্যাশনে বেহাল সড়ক, চরম দুর্ভোগে ৫ লাখ মানুষ
বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ সংস্কার কাজ

ভোলার চরফ্যাশনে বেহাল সড়ক, চরম দুর্ভোগে ৫ লাখ মানুষ

রেদওয়ানুল হক

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেশিরভাগ সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত আর খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার ৫ লক্ষাধিক বাসিন্দাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর থেকে চারটি থানা সদরে যাওয়ার রাস্তাগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো। এর বাইরে ২১টি ইউনিয়নের গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চরফ্যাশন বাজার থেকে চরমাদ্রাজ ইউনিয়নে প্রবেশের সব কটি রাস্তায় বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। 

 

এ ছাড়া ওসমানগঞ্জ, আসলামপুর, জিন্নাগড়, আমিনাবাদ, নুরাবাদসহ অন্য ইউনিয়নের ৯০ শতাংশের বেশি রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে চরাঞ্চলের রাস্তাগুলোর অবস্থা একেবারেই নাজুক। গত দুই বছরে এসব রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।


বাসিন্দারা জানান, সদ্য বিদায়ী বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে পানি ও কাদা জমে থাকত। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। এখন বর্ষা শেষ হয়ে শুষ্ক মৌসুম ও শীতের আগমন ঘটলেও ভোগান্তি কমেনি; বরং বেড়েছে নতুন আতঙ্ক। ভাঙাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সময় প্রচুর ধুলাবালি উড়ছে। এতে পথচারী ও সড়কের পাশের বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা বায়ুবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।


সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। বেহাল দশার কারণে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা কোনো যানবাহন এসব সড়কে প্রবেশ করতে চায় না। ফলে অনেক সময় রোগীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও বয়স্করাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।


চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্ষায় কাদাপানির কারণে যাতায়াত করা যেত না। এখন শুকনো মৌসুমে ধুলার যন্ত্রণায় টেকা দায়। ভাঙা রাস্তায় রিকশা বা অটোরিকশায় উঠলে ঝাঁকুনিতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে।


একই ধরনের অভিযোগ ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা সরওয়ার হোসেনের। তিনি বলেন, এখন ভালো রাস্তা খুঁজে পাওয়াই কঠিন। একে তো রাস্তা সংস্কার হয় না, আবার সংস্কার হলেও তা বেশি দিন টেকে না। নিম্নমানের কাজ এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী।


রিকশাচালক মনির জানান, ভাঙা রাস্তার কারণে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগে, প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। বারবার রিকশা অকেজো হয়ে পড়ায় মেরামতেও লাগে মোটা অঙ্কের অর্থ। এতে একদিকে যেমন উপার্জন কমছে, অপরদিকে বাড়ছে রিকশা মেরামতের ব্যয়।


জানতে চাইলে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, রাস্তা সংস্কারের মূল কাজ করে এলজিইডি। উপজেলা নির্বাহী অফিসের আওতাধীন বরাদ্দ থেকে অতি জরুরি বিবেচনায় সীমিত পরিসরে কিছু রাস্তা সংস্কার সম্ভব। সামর্থ্য অনুযায়ী এটি আমরা করছি।


এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রকৌশলী তানজিলুর রহমান জানান, বর্তমানে কোনো বরাদ্দ না থাকায় রাস্তা সংস্কার সম্ভব নয়। নতুন বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হবে। তবে বরাদ্দ পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বরাদ্দ কার্যকর ও তা বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে অন্তত এক বছর। এ ছাড়া যেসব রাস্তা সংস্কার বা নির্মাণের তিন বছর অতিবাহিত হয়নি, সেসব রাস্তা আপাতত সংস্কারের আওতায় আসবে না। অথচ অনেক রাস্তাই আছে, যেগুলো সংস্কারের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এসব রাস্তা সংস্কারের কোনো সম্ভাবনাই এখন নেই। ফলে চলাচলের এই ভোগান্তি থেকে আপাতত রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ- এমনটাই শঙ্কা বিশ্লেষকদের।


উপকূলীয় মানবাধিকার সংগঠন রাইটস ফর কোস্টাল পিপলের (আরসিপি) মহাসচিব ইব্রাহীম খলিল বলেন, সাধারণত এসব রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়, বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। ফলে যথাযথভাবে নির্মাণ না হওয়ায় দ্রুত রাস্তাগুলো ভেঙে যায়। তাই রাস্তা সংস্কার বা নির্মাণে স্বচ্ছতা আনতে হবে।

 

যেহেতু বর্তমানে বরাদ্দ নেই, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিকল্প উদ্যোগ নিতে পারেন। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের প্রকল্প থেকে অর্থ নিয়ে অন্তত কিছু রাস্তা দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে জনদুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হয়।


এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, এ সমস্যা শুধু চরফ্যাশনের নয়, সারা বাংলাদেশেই একই চিত্র। সরকারি বরাদ্দ ছাড়া হাজার কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার সম্ভব নয়। অন্য কোনো প্রকল্প থেকেও অর্থায়ন করার তেমন সুযোগ নেই।

 

তিনি আরও বলেন, বহির্বিশ্বের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটসহ নানামুখী চাপের কারণে সরকারের বরাদ্দও সময়সাপেক্ষ। বিগত সরকারের সময়ে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারকাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় এখন প্রায় সব রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে বর্তমান সরকারের ওপর এসব রাস্তা সংস্কারের বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন