সারা বাংলা
সুন্দরবনের মাছ ধরতে গিয়ে ১০ জেলেকে অপহরণ: মাথাপিছু ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বনের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়। অপহৃতদের পরিবার ও ফিরে আসা জেলেদের দাবি, প্রত্যেকের মুক্তির জন্য ১ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে।
নোটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদী এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের আমির আলী এবং দাতিনাখালী গ্রামের আলম সানার নেতৃত্বাধীন দুটি বাহিনীর পরিচয়ে এই জেলেদের তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগরের ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল, ইমরান ও খোরশেদ, ছোটভেটখালী গ্রামের নুরুজ্জামান, কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী, সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী এবং কয়রা উপজেলার মোমিন মোড়ল, দিদারুল ও ইমরান।
স্বজন ও ফিরে আসা জেলেদের তথ্যমতে, প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন, যেখান থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করা হয়। নুরুজ্জামান, দিদারুল ও ইমরানসহ নয়জনের মুক্তির জন্য মাথাপিছু ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে একা থাকা সুরাত আলীর মুক্তিপণ তুলনামূলক কম চাওয়া হলেও নির্দিষ্ট অঙ্ক জানা যায়নি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানান, জেলেদের মাধ্যমে তাঁরা অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং উদ্ধারে বন বিভাগের টহল দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশাল বনাঞ্চলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে একা অভিযান পরিচালনা করা কঠিন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম বলেন, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর পরিবারগুলো সাধারণত গোপনে সমঝোতা করে, যার কারণে ফিরে আসা জেলেরা অনেক সময় পুলিশকে তথ্য দিতে চান না। তবে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের মালিককে শনাক্ত করে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ডিবিসি/এমকেএ