আন্তর্জাতিক
মিশরের নীল নদের বদ্বীপে মাটির নিচে ২৬০০ বছরের পুরোনো স্থাপনার সন্ধান

মিশরের নীল বদ্বীপ অঞ্চলের ‘টেল এল ফারাইন’ নামক প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে ২৬০০ বছরের পুরোনো একটি বিশাল মাটির ইটের কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। ইউরোপীয় সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের রাডার প্রযুক্তি এবং ভূগর্ভস্থ জরিপের মাধ্যমে বদ্বীপের পানিমগ্ন ও নরম মাটির নিচ থেকে এই প্রাচীন ইমারতটি আবিষ্কার করা হয়।
উদ্ধার করা এই কাঠামোর গভীরতা থেকে মিশরের ২৬তম রাজবংশ বা সাইট যুগের (খ্রিস্টপূর্ব ৬৮৮-৫২৫) প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মিলেছে। ভবনটির মূল উদ্দেশ্য ঠিক কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে গবেষকদের ধারণা, এটি কোনো সমাধি, পুরোহিতদের বাসভবন কিংবা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত কোনো স্থাপনা হতে পারে। সেখানে খনন চালিয়ে পুরু মাটির ইটের দেয়াল এবং প্রাচীন মিশরে মৃত ব্যক্তির সেবায় কবরে রাখা উশাবতি মূর্তি পাওয়া গেছে। এছাড়া পশুর রক্তের অবশেষসহ একটি চুনাপাথরের বেদি এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দেবতা থোথ-এর প্রতীক ছোট একটি গ্লেজড সিরামিক বাবুন মূর্তিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এই আবিষ্কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো প্রাচীন মিশরীয়দের তাক লাগানো প্রকৌশল বিদ্যা। গবেষকরা দেখতে পান যে, ভবনের ভিত্তির নিচে ৬ থেকে ৭ মিটার গভীরে পরিষ্কার বালুর একটি পুরু স্তর রয়েছে। গবেষক দলটি এটিকে ‘আবিষ্কারের ভেতরে আরেকটি আবিষ্কার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নীল বদ্বীপের কাদামাটিযুক্ত মাটি সাধারণত পানি পেলে ফুলে ওঠে এবং শুকালে সংকুচিত হয়, যা বড় ও ভারী স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে বড় বাধা। প্রাচীন প্রকৌশলীরা বদ্বীপের এই নরম ও পরিবর্তনশীল মাটি থেকে ইমারতটিকে বাঁচাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বালুর এই স্তর ব্যবহার করেছিলেন। গবেষকদের মতে, এই বালুর স্তর ভবনের ওজন সমানভাবে ছড়াতে, ভূগর্ভস্থ পানি নিষ্কাশন করতে এবং মাটির নড়াচড়া কমাতে সাহায্য করেছিল। একই সঙ্গে এটি আর্দ্রতা রোধ করে হাজার বছর ধরে মাটির ইটগুলোকে সুরক্ষিত রাখতেও ভূমিকা রেখেছে। আধুনিক ভূ-প্রকৌশল বা জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিকাশের হাজার বছর আগেই প্রাচীন মিশরীয়দের মাটি ও পরিবেশ সম্পর্কে এই ধরনের উন্নত জ্ঞান ছিল তা এই আবিষ্কার প্রমাণ করে।
বুটো ছিল প্রাচীন মিশরের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। বিদেশি শাসনের পর ২৬তম রাজবংশের শাসকরা ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর বদ্বীপজুড়ে ধর্মীয় কেন্দ্রগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন। মূলত ঐতিহাসিক সংযোগ জোরদার করা এবং নিজেদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বৈধতা বাড়াতেই তারা বুটোর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর উন্নয়ন করেছিলেন। বড় ধরনের খনন কাজ ছাড়াই আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে মাটির নিচের এসব প্রাচীন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
সূত্র: গালফ নিউজ
ডিবিসি/এসভিএন