জাতীয়, ঢালিউড
চলচ্চিত্রশিল্পে করোনার থাবা, বন্ধ সিনেমা হল
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দুই সপ্তাহের জন্য দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ রাখার নির্দেশে ধস নেমেছে ঢাকার চলচ্চিত্রশিল্পে। তবে এই মুহূর্তে ব্যবসায়িক ক্ষতির চেয়ে মানুষের জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন চলচ্চিত্রকর্মীরা।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতি। দেশের মৃতপ্রায় চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর এটি যেন খাঁড়ার ঘা। এই অবস্থায় ব্যবসায়িক ক্ষতি মেনে নিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে সিনেমা হলগুলো।
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা মিশা সওদাগর বলেন, 'কষ্ট হবে হল মালিকদের-প্রোডিউসারদের এটা সমবেদনা। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওবং যে যে সংস্থাগুলো আমাদের উপদেশ দেয় আমরা তা মেনে চলি।'
অভিনেতা জায়েদ খান বলেন, 'মানুষের জীবন সবার আগে, আশা করবো সিনেমা হলগুলোতো সারা জীবনের জন্য বন্ধ হচ্ছেনা। আমাদের জীবনের প্রয়োজনে ১-২ মাস লস হবে। তবে ইনশাল্লাহ ভালো ছবি দিয়ে সেটা পরে কাভার হবে।'
তাই বাণিজ্যের চেয়ে জীবনের গুরুত্ব বড় হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্রমহলে। করোনা প্রতিরোধে দর্শকদের সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন চলচ্চিত্রকর্মীরা।
পরিচালক বদিউল আলম খোকন বলেন, 'আপাতত এ আপদকালীন সময়ে সিনেমায় বিরতি রেখে নিজ নিজ অবস্থানে অবস্থান করে এই ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে।'
এদিকে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চালু রয়েছে কয়েকটি সিনেমা হল। এ ব্যাপারে ক্ষতি মেনে নিয়ে জনস্বাস্থ্যকেই গুরুত্ব দেয়ার আহ্ববান জানান প্রযোজকরা।
প্রযোজক খোরশেদ আলম খশরু জানান, 'ঘোষণার পরেও যদি কেউ সিনেমা হল বা সিনেপ্লেক্স খোলা রাখে ওবং সেখান থেকে যদি কেউ আক্রান্ত হয় এর সমস্ত দায়ভার ওই সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।'
প্রযোজক ও নির্মাতা ইলা জাহান নদী জানান, 'মানুষের জীবনের চেয়ে তো আর বড় কিছু নাই। মানুষ যখন বাঁচবে যে লসগুলো হবে সেগুলো ওভারকাম করে নেয়া যাবে। জীবনের জন্য যে পদক্ষেপগুলো দরকার সেগুলোই আগে নেয়া উচিত।'
সব মিলিয়ে করোনা মোকাবেলায় সচেতনতার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।